ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের স্থবির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সচলের চেষ্টা, আলোচনায় গুরুত্ব পাবে চলমান দর-কষাকষি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসানে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান সফরে যাচ্ছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর এ সফর হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনায় চলমান দর-কষাকষিসংশ্লিষ্ট বিষয় উঠে আসবে। তবে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে সাধারণত বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালীটির নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তাঁর এ বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনারই প্রতিফলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রণালীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাকিস্তানের
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এ পর্যন্ত যেসব আলোচনা হয়েছে, সেগুলোতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। গত জুনে দেশটি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে সহায়তা করেছিল। তবে সেই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
এরপরও তেহরান মনে করে, যেকোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হওয়া উচিত জুনের ওই সমঝোতা স্মারক। সেটিকে ভিত্তি করে নতুন করে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জুনের সমঝোতার পর আসিম মুনিরের এটি হবে পঞ্চম সফর। তাঁর এবারের সফরে চলমান দর-কষাকষির অগ্রগতি এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি। তবে দেশটিতে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, “আমরা দিনরাত এই আশঙ্কার মধ্যেই রয়েছি। এখন কথা বলার সময়ও আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
তাঁর এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও ইরান নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
লাভরভের সফরের পর আসিম মুনিরের তেহরান যাত্রা
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সোমবারের সফরের পর আসিম মুনিরের তেহরান সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধারাবাহিক এই কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে চলমান সংকট নিরসনে নতুন কোনো অগ্রগতি আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ, শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। আসিম মুনিরের সফরে এসব বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হয়, তার ওপর আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।

