বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখল খাস জমি দিয়ে পূরণ, চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করা এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছে এক ভ্যান চালকের পরিবার।

উপজেলার সারিয়াকান্দি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধাপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিতে ভুক্তভোগী মো. আসলাম স্বর্ণকার নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা এবং বসতবাড়ি নির্মাণের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধাপ গ্রামের মৃত মাজেদ স্বর্ণকারের ছেলে মো. আসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু একই এলাকার মৃত রইচ উদ্দিন কবিরাজের তিন ছেলে- মো. পিন্টু কবিরাজ, নান্টু কবিরাজ ও লাবলু কবিরাজ সংঘবদ্ধভাবে এই নির্মাণকাজে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করছেন।
অভিযুক্ত তিন ভাই আসলামের কেনা জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি, বরং সংলগ্ন সরকারি খাস জমি বেআইনিভাবে দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা আসলামের জায়গায় জোরপূর্বক টিনের বেড়া তুলে দখল বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দিলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী আসলাম স্বর্ণকার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমার নিজের কেনা জমিতে বাড়ি করতে পারছি না। তারা জোর করে টিনের বেড়া দিয়ে জমি দখল করে নিয়েছে। প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এখন আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে আসলাম স্বর্ণকারের ছেলে শান্ত জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন বিক্রেতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক কবিরাজের নিকট থেকে তাঁর বাবা ও মায়ের যৌথ নামে ৪ শতক জমি ক্রয় করা হয়। ক্রয়ের পর থেকে গত প্রায় ১৮ বছর ধরে তাঁরা জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
সম্প্রতি সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করলে পিন্টু, নান্টু ও লাবলু কবিরাজ কাজে বাধা দেন। তাঁরা পার্শ্ববর্তী কিছু সরকারি খাস জমি দেখিয়ে বেআইনিভাবে মূল ক্রয়কৃত জমিটি দখল করে নেন এবং যাতায়াতের প্রধান রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। ফলে সেখানে রাখা বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত পিন্টু কবিরাজ, নান্টু কবিরাজ ও লাবলু কবিরাজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সারিয়াকান্দি পৌরসভা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আসলাম স্বর্ণকারের লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

