অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

টিকটকে তান্ত্রিক ও মসজিদের খাদেম পরিচয়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

কিশোরগঞ্জের পাগল মসজিদের খাদেম পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ; পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

টিকটকে নিজেকে তান্ত্রিক ও কিশোরগঞ্জের পাগল মসজিদের খাদেম পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. মিজানুর রহমান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জামালপুর সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মিজানুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের নামও উল্লেখ করেছেন। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

টিকটকে পরিচয়, পরে ইমুতে যোগাযোগ

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী নুসরাত মরিয়ম (ছদ্মনাম) টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি আইডির মাধ্যমে কথিত তান্ত্রিকের সঙ্গে পরিচিত হন। নিজের পারিবারিক সমস্যার কথা জানাতে তিনি ইমু ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কথিত কবিরাজি উপাদান কেনা এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এ অর্থ নেওয়া হলেও ভুক্তভোগী কোনো সমাধান পাননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। গত ৪ জুলাই দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার

পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (অর্গানাইজড ক্রাইম—উত্তর) তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল হক। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন তদন্ত তদারকি করছেন।

কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর অভিযোগ

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, মিজানুর রহমান বিভিন্ন টিকটক আইডি ব্যবহার করে নিজেকে কিশোরগঞ্জের পাগল মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন। প্রাচীন কবিরাজি পদ্ধতির উপকরণ হিসেবে হাড়, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন তিনি। এসব ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হতো বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তাঁর ভিডিও দেখে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশায় যোগাযোগ করেন। পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কবিরাজি উপকরণ কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক থাকার আহ্বান

পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডওর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণা করছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ কিংবা অলৌকিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

পিবিআই জানিয়েছে, এ মামলায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন