বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার আগুন ৩৭ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নির্বাপণ

১০ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন, গুদামের মালামালের নিচে জমে থাকা তাপ ও ধোঁয়ায় বাড়ে জটিলতা; অসুস্থ চার ফায়ার সার্ভিসকর্মী

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে লাগা আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে ৩৭ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে মার্কেটটির সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লাগার পর মঙ্গলবার ভোরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভবনের গুদামগুলোতে থাকা মালামালের নিচে জমে থাকা অবশিষ্ট তাপ ও ধোঁয়ার কারণে আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় প্রয়োজন হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

১০ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটারা এলাকায় এসি মসজিদসংলগ্ন মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নেয়।

দীর্ঘ চেষ্টার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে থাকা গুদামগুলোর মালামালের নিচে ধোঁয়া ও অবশিষ্ট তাপ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ভবনের ভেতরে দৃশ্যমান আগুন না থাকলেও সর্বত্র আগুন পুরোপুরি নিভেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন। এ কারণে গুদামে জমে থাকা মালামাল সরিয়ে ভেতরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছিল।

সরু রাস্তা, ধোঁয়া ও পানির সংকটে উদ্ধারকাজে বাধা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে সরু রাস্তা ও পানির উৎসের সীমাবদ্ধতাও কাজকে বাধাগ্রস্ত করে।

তিনি জানান, ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের কাজ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও গুদামগুলোর ভেতরে কোথাও তাপ জমে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা চালাতে হয়।

তালাবদ্ধ গুদামে ছিল বিভিন্ন পণ্য

মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদাম থাকায় আগুন নেভানোর কাজ আরও জটিল হয়ে ওঠে। গুদামগুলোর দরজা ও শাটার তালাবদ্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।

গুদামগুলোতে ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রী, ছাতা, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুত ছিল। এসব পণ্যের স্তূপের নিচে আগুনের অবশিষ্ট তাপ আটকে থাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ কারণে শুধু পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। গুদামের মালামাল সরিয়ে বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হয়, যাতে ভেতরে কোথাও আগুনের অবশিষ্ট তাপ বা জ্বলন্ত অংশ থেকে না যায়।

অসুস্থ চার ফায়ার সার্ভিসকর্মী

অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চলাকালে ঘন ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

এদিকে আগুন পাশের ভবন ও আশপাশের মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

ষষ্ঠ তলায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

তবে আগুনে কতটি গুদাম বা দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন