বিপিসির কাছে জ্বালানি সংকটের কারণ ও মূল্যবৃদ্ধির পর সংকট কাটার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে; পরবর্তী বৈঠকে চাহিদা, মজুত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য দিতে নির্দেশনা
দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরির সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, মজুত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে চাহিদা বৃদ্ধির পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
কেন বাড়ে জ্বালানির দাম, আলোচনা সংসদীয় কমিটিতে
বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্য সমন্বয়ের পেছনের কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জ্বালানির দাম কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব, সে বিষয়েও বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কমিটি।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য কমানো বা বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের ভূমিকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
কমিটি মনে করছে, দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এমন পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলার পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা সম্ভব হয়।
বিপিসির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা চাইল কমিটি
বৈঠকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট তৈরির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়—সংকটের সময় এবং পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা একই ধরনের থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর পর কীভাবে সংকটের অবসান ঘটল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।
এই প্রশ্নের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের পেছনে প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ কিংবা অন্য কোনো কারণ কার্যকর ছিল কি না—সেসব বিষয়ও পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।
পরবর্তী বৈঠকে দিতে হবে তিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পরবর্তী বৈঠকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি। বিশেষ করে—
বর্তমানে দেশে মোট জ্বালানি চাহিদা কত, সেই জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা কত এবং ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি কী—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাও কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে।
বিপিসি ও তিন তেল কোম্পানির কার্যক্রম পর্যালোচনা
বৈঠকে বিপিসির পাশাপাশি এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের কার্যক্রম এবং জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আলোচনায় আসে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বিপিসির কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

