অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে সহায়তা বাড়াবে সরকার, গুরুত্ব এআই-সেমিকন্ডাক্টর ও দক্ষ কর্মসংস্থানে

করনীতি ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা পর্যালোচনার কথা জানালেন ড. তিতুমীর; সিলিকন ভ্যালির বিশেষজ্ঞ-উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংলাপ

দেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ও উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান বাড়াতে করনীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করবে সরকার। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ প্রতিপাদ্যে এ সংলাপ আয়োজন করে। এতে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মতবিনিময় করেন।

প্রযুক্তি সহযোগিতার সুফল পৌঁছাতে হবে নাগরিকের কাছে

ড. তিতুমীরের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফলে রূপ দেওয়া। তিনি বলেন, সরকারের কর ও আর্থিক নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের চূড়ান্ত সুফল যেন নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে আলোচনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে সম্ভাব্য উদ্যোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীদার এবং পরবর্তী করণীয় নির্দিষ্ট করার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।

এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে সম্ভাবনা

সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির বিষয় উঠে আসে।

বাংলাদেশে এআইয়ের সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়ে নিজেদের কাজ ও ধারণা তুলে ধরেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের ড. শরিফা সুলতানা, উবারের ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও এ খাতের পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ।

মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজির সংযোগ

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় ‘মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি’ নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ প্রযুক্তি শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। আলোচনায় গবেষণা, জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প-শিক্ষা অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্টার্টআপ এবং শিল্প খাতের কার্যকর সংযোগ তৈরি করে প্রযুক্তি খাত এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। দেশের প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগে রূপান্তরের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

প্রযুক্তি কূটনীতিতে গুরুত্ব

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা তৈরির ওপর জোর দেন।

তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন।

এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানেও কাজে লাগানো সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ডিজিটাল দক্ষতা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের উপযুক্ত ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীসহ সবার কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতি সারাদেশে প্রয়োগের আগে পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও সংলাপে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল।

আলোচনা থেকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন