রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযানের নির্দেশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, এমনকি ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটিও যেন আর বলতে না হয়—সেই লক্ষ্যেই পুলিশ কাজ করছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত তিন মাসের সঙ্গে আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। নাগরিকদের প্রত্যাশা, মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদকের অস্তিত্ব থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, তালিকা অনুযায়ী এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। বিশেষ করে রাতে গ্যারেজের ভেতরে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানকারীদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।

ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় র‌্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র‌্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন