অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু করতে চাই: সিইসি

দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, একই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশকে আরও সচেষ্ট থাকতে হবে।

সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাও পুলিশের আইনগত দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় নির্বাচনের মতো একই মান বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তার অধিকাংশই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে সম্পন্ন করার মাধ্যমে সেই আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নির্বাচন পরিচালনা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় পুলিশকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এবং পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত রোডম্যাপ এবং একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি ভেন্যুতে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এতে কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, একইভাবে অন্তত সেই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজন করতে চান তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন