শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংশোধন হচ্ছে বিমান খাতের বিধিমালা, জোর দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগে

বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। দীর্ঘ ৪২ বছর পর ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ১৯৮৪’ সংশোধন করে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়ার ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও নতুন বিধিমালাকে আরও ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করার বিষয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিদ্যমান বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ কারণে নতুন বিধিমালাকে অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।

বিনিয়োগ সহজীকরণে অংশীজনের মতামত

এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা প্রণয়নে তাদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা-সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতি তিন মাসে অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন

বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়া আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের অভ্যন্তর ও আশপাশের এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থাপন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের এমআরও ইউনিট

দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন