সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদারে আলোচনা, অক্টোবরে চীন সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমাইয়ুন কবির ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমাইয়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে হুমাইয়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘একই ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়টিকে স্বাগত জানান তিনি।

অন্যদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের জন্য হুমাইয়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে আসে।

রাষ্ট্রদূত জানান, সিইআইজেডে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সফর ও দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি সম্পর্কেও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর মধ্যে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের পরিকল্পিত বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমাইয়ুন কবিরকে চলতি বছরের অক্টোবরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন