সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ভিয়েনায় দুঃসাহসিক চুরি, উধাও ৬৭৩ হীরার রাজকীয় হার

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার একটি জাদুঘর থেকে মিসরের সাবেক রানি নাজলির ব্যবহৃত ৬৭৩টি হীরায় খচিত একটি মূল্যবান হার চুরি হয়েছে। প্রায় ২০০ ক্যারেটের এই ঐতিহাসিক হারটি দর্শনার্থীদের চোখের সামনেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চুরি করে পালিয়েছে দুই ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিয়েনার মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লায়েড আর্টসে বিশেষ প্রদর্শনী চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ দর্শনার্থীর মতো টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেছিল দুই ব্যক্তি। তাদের কারও মুখে মুখোশও ছিল না।

জাদুঘরে প্রবেশের পর তারা সরাসরি মূল প্রদর্শনী কক্ষে যায়। সেখানে কাচের নিরাপত্তাবাক্সে রাখা হারটি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিয়ে পালিয়ে যায়। আকস্মিক ও দ্রুতগতির এ ঘটনায় উপস্থিত দর্শনার্থীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোরেরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ভিয়েনাজুড়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ দল অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তে সাধারণ মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রোনেন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের হয়ে ভাড়াটে সদস্যরা এ চুরি করে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে জাদুঘরের বিশেষ প্রদর্শনীটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই হারটির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে মিসর ও ইরানের রাজপরিবারের ইতিহাস। ১৯৩৯ সালে মিসরের তৎকালীন রানি নাজলি তাঁর মেয়ে রাজকুমারী ফাওজিয়ার বিয়েতে হারটি পরেছিলেন। ফাওজিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইরানের তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির।

বিশ্বখ্যাত ফরাসি অলংকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের তৈরি হারটি ২০১৫ সালে নিলামে তোলা হয়। সে সময় প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলারে হারটি বিক্রি হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে মূল্যবান শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর, স্পেনের ব্রোঞ্জ যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা এবং ইতালির মেসিনা জাদুঘর থেকেও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, জাদুঘরে চুরির ক্ষেত্রে অপরাধীরা ক্রমেই বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বড় হাতুড়ি ও কুড়াল ব্যবহার করে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙার পাশাপাশি কোথাও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন