বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রংপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিদ্যালয়টির শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষিবিদ আবদুল বারী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, ড. আরেফিন অমল বাগচী ও রাকিকুজ্জামান বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, রংপুরের মতো একটি শান্তিপূর্ণ শহরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। এ ঘটনায় রংপুরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ঘটনার সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তের নামে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

যেভাবে উদ্ধার হয় চারজনের মরদেহ

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয় বলেও পুলিশের দাবি।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়, হত্যার ধরন এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত যাচাই করছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলেন, একজন শিক্ষকসহ তাঁর পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন