বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

নামাজ ও মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিলেন সহিদ উদ্দিন মাইজভান্ডারী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।

তিনি বলেন, নামাজ কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না। একই সঙ্গে অন্যের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং কারও হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পৃথিবীতে আগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মহানবী (দ.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর আদর্শ অনুসরণীয়। মহানবীর জীবনাদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দরুদ পাঠের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাশরের মাঠে কোনো আমলনামা কবুল না হলেও দরুদ কবুল হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের আহ্বান জানান।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মিলাদ আগে, সিরাত পরে।’ ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যারা বিরোধিতা করেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ইয়াজিদের ইসলামের পক্ষে, আর আমরা হোসাইনী ও মদিনার ইসলামের পক্ষে।

নামাজের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আল্লাহর নামে নামাজ শুরু হয়। তাই কোনো অবস্থাতেই নামাজ পরিত্যাগ করা উচিত নয়। পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অন্যের হক আদায়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) কেবল আনন্দ-উৎসবের বিষয় নয়; এটি মহানবী (দ.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাঁর সুন্নাহ ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণের মধ্য দিয়েই এ দিনের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মুফতি আব্দুল মতিন চাঁদপুরী, মুফতি নজরুল ইসলাম রেজভী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আশেকান ও ভক্তরা অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে একটি জশনে জুলুশ বের করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হওয়া জুলুশটি মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে জোহরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন