বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান নিয়ে দুদকের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করলেন নাহিদ

‘রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে দুদককে ব্যবহারের অপচেষ্টা চলছে’—অভিযোগ এনসিপি আহ্বায়কের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান নিয়ে সংস্থাটির পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রচারণাকে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, কয়েক মাস আগে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে দুদককে আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুদককে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। বর্তমান ঘটনাপ্রবাহেও তিনি সেই ধরনের প্রবণতার পুনরাবৃত্তি দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।

যে অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান

এর আগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায় দুদক। ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুদক-সংশ্লিষ্ট তথ্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়োগ ও বিভিন্ন পদায়নে অনিয়ম এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এগুলো বর্তমানে অভিযোগ ও অনুসন্ধানাধীন বিষয়; প্রমাণিত অপরাধ নয়।

এনসিপি অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দলটির দাবি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুদকের অনুসন্ধান এগিয়েছে। এনসিপি এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

দুদক বলছে, অভিযোগ ‘মনগড়া নয়’

এদিকে এনসিপির অভিযোগের বিপরীতে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান মঙ্গলবার বলেছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ ‘মনগড়া নয়’। অভিযোগে বিদেশে অর্থপাচারের যেসব তথ্য রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

ফলে একদিকে এনসিপি অভিযোগের উৎস ও দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে দুদক বলছে, নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ যাচাই ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম চলছে।

‘স্বাধীন দুদক হলে তদন্তে সহযোগিতা করব’

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুদককে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু সেই সংস্কার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বর্তমান কমিশনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ বলেন, জুলাই সনদের আলোকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক পুনর্গঠিত হলে যেকোনো অভিযোগের তদন্তে দলটি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে কমিশনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের জন্য ব্যবহারের কোনো প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে দুদককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করে তা বন্ধের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক। একই সঙ্গে জুলাই সনদের সংস্কার কাঠামোর ভিত্তিতে কার্যকর, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন