বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ বাণিজ্যে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কর ফাঁকি এবং রাজস্ব আত্মসাৎ-এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তারা কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকির সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ কারণে প্রতি বছর সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীর প্রকৃত আয়ের তুলনায় কম কর নির্ধারণ করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে, ঘুষ না পেলে ভুয়া কর ফাঁকির মামলা দায়ের করে ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে।

করদাতাদের অতিরিক্ত কর ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, করদাতারা আগাম বা অতিরিক্ত কর দিলে তা হিসাব-নিকাশের পর ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কর ফেরত পেতে গেলে করদাতাদের ঘুষ বা উপহারের আকারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেরাই এই প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন স্টেশনে কর্মরত অবস্থায় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে শুল্ক, ভ্যাট এবং ক্ষেত্রবিশেষে আয়কর ফাঁকির সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের ক্ষতি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যেই নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে:

১. কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট, ঢাকা পূর্ব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

২. মোঃ কামরুজ্জামান, কমিশনার, বেনাপোল স্থল বন্দর

৩. মোঃ মামুন মিয়া, উপ-কর কমিশনার, সার্কেল ৭, রাজশাহী

৪. সেহেলা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত কর কমিশনার, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট

৫. লোকমান আহমেদ, কর পরিদর্শক, কর অঞ্চল-২, ঢাকা

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন