সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

দুবাইফেরত বিমানে ১,৮০২ কার্টন সিগারেট ও ১৩ আইফোন জব্দ, মূল্য সাড়ে ৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম, ১৭ আগস্ট ২০২৬:

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও আইফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১৩টি আইফোন। শুল্ক-করসহ এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

সিআইআইডি জানায়, মহাপরিচালকের কাছে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটটির যাত্রী ও তাদের ব্যাগেজের ওপর বিশেষ নজরদারি করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সন্দেহভাজন যাত্রী ও ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানে প্রথমে তিন যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও আইফোন উদ্ধার করা হয়।

তিন যাত্রীর ব্যাগে ৭৮২ কার্টন সিগারেট

কাস্টমস গোয়েন্দাদের অভিযানে যাত্রী এমডি. মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ও মন্ড ব্র্যান্ডের মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়।

একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে ২৪৬ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও চারটি আইফোন উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, যাত্রী নুরুল আলম রিয়াদের কাছ থেকে ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।

এই তিন যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়।

মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১,০২০ কার্টন

অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে।

সিআইআইডি কর্মকর্তারা একই ফ্লাইটে আসা একটি মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ শনাক্ত করে তল্লাশি চালান। ওই ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

এর ফলে একক একটি ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করা সিগারেটের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০২ কার্টন।

এক ফ্লাইটেই ১৩ আইফোন

তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে মোট ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এমডি. মঈনুল আবদিনের কাছে চারটি, আবদুল মান্নানের কাছে চারটি এবং নুরুল আলম রিয়াদের কাছে পাঁচটি আইফোন পাওয়া যায়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাবে, জব্দ করা সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা

মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব

একই ফ্লাইটে একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও আইফোন উদ্ধার এবং একই ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে আরও ১ হাজারের বেশি কার্টন সিগারেট উদ্ধারের ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

বিশেষ করে মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে থাকা বিপুল পরিমাণ সিগারেট কীভাবে বিমানবন্দরে এসেছে, এর প্রকৃত মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কারা এবং চালানটি দেশে আনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে।

চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরগুলোতে সন্দেহভাজন যাত্রী, ব্যাগেজ ও পণ্যের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি পণ্য দেশে আনা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনাটি বিমানবন্দরভিত্তিক চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরদারির গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে।

উদ্ধার করা পণ্যগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন