শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

নয়াদিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত চৌদ্দগ্রামের সোহাগ, মরদেহ দেশে আনতে হাইকমিশনের উদ্যোগ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালবীয় নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন সোহাগ। গত ৩ জুন সকালে মালবীয় নগরের হাউস রানী এলাকার একটি পাঁচতলা বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলে সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সোহাগ গুরুতর দগ্ধ হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অগ্নিকাণ্ডে সোহাগের ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে নয়াদিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ওই অগ্নিকাণ্ডে বিভিন্ন দেশের মোট ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো. নূরুল আমিন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোহাগের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন