মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬; আদালতে স্বীকারোক্তি ২ জনের

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে আতিকুল ইসলামের (৩৯) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা জসীমউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান।

তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি শান্ত হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতে ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) এবং জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।

তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর রাতে আলী সম্রাট নামের এক ব্যক্তির ডাকে আতিকুল ইসলাম আলীগঞ্জ রেললাইনের কাছে যান। সেখানে আলী সম্রাট প্রথমে আতিকুলের পাওনা ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। তবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আসামিরা আতিকুলের কাছ থেকে ওই ৫০ হাজার টাকাসহ তার কাছে থাকা আরও টাকা ছিনিয়ে নেয়।

একপর্যায়ে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতিকুল ইসলামের পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরে ফেলে দেয়।

পুলিশ রিমান্ড শেষে গত ১৭ মে সকল আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মূল আসামি শান্ত হোসেন এবং আহাদ আলী স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন