রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

আগামী ৫ বছরে আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা সরকারের

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে টেলিকম ও প্রযুক্তিখাতকে আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, টেলিকম অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরকার টেলিকম খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ৫জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি ও ক্লাউডভিত্তিক সেবার সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্য ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সরকার ৫জি ও এআই প্রযুক্তিকে গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং এই খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আইসিটি খাতের অবদান ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, ৫জি, ডাটা সেন্টার, এআই এবং সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সঠিক নীতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে প্রযুক্তিখাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

গোলটেবিল আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবি-এর হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন