রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

এআই ডিপফেক ঠেকাতে নতুন টুল আনল ইউটিউব, ১৮ বছরের বেশি সব ক্রিয়েটরের জন্য উন্মুক্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেকের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ চালু করেছে ইউটিউব। ভিডিও প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এখন থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সব ক্রিয়েটর এমন একটি বিশেষ টুল ব্যবহার করতে পারবেন, যা তাদের মুখাবয়ব বা চেহারা অনুমতি ছাড়া এআই ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

ইউটিউবের কমিউনিটি টিম জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে এই সুবিধা চালু করা হবে। এর লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি দেওয়া, যাতে তারা সহজেই অনুমতিবিহীন কনটেন্ট শনাক্ত করে অপসারণের আবেদন করতে পারেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, বর্তমানে বাস্তব ভিডিও ও এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে এই টুল সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া কারও মুখ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ভুয়া বিজ্ঞাপন বা প্রতারণামূলক ভিডিও তৈরি ঠেকাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউটিউব প্রথম এ প্রযুক্তির ধারণা ২০২৪ সালে প্রকাশ করে। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে এটি সীমিত পরিসরে চালু করা হয়। শুরুতে শুধু ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের সদস্যরা এই সুবিধা পেতেন। এরপর ধীরে ধীরে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের জন্যও এটি উন্মুক্ত করা হয়। এবার তা সব প্রাপ্তবয়স্ক ক্রিয়েটরের জন্য সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ইউটিউবের মুখপাত্র জ্যাক ম্যালন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অভিজ্ঞ নির্মাতা হোক কিংবা নতুন কেউ—সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

নতুন টুল ব্যবহার করতে হলে ক্রিয়েটরদের কম্পিউটার থেকে ইউটিউব স্টুডিওতে গিয়ে “Content Detection” বিভাগের অধীনে “Likeness” অপশনে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর কিউআর কোড স্ক্যান করে সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে এবং একটি সেলফি ভিডিও যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ইউটিউব স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোড হওয়া ভিডিওগুলো স্ক্যান করবে এবং কোনো ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেলে তা ব্যবহারকারীকে দেখাবে। এরপর ব্যবহারকারী ভিডিওটি পর্যালোচনা করে অপসারণের অনুরোধ জানাতে পারবেন।

ইউটিউব জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা চাইলে ভিডিওতে তাদের কণ্ঠস্বরও নকল করা হয়েছে কি না সে সম্পর্কেও তথ্য দিতে পারবেন। তবে বর্তমান টুলটি শুধুমাত্র মুখাবয়ব শনাক্ত করতে সক্ষম, কণ্ঠস্বরের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ এখনো যুক্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডিপফেক এখন বিশ্বব্যাপী বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, সাইবার প্রতারণা, ভুয়া প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত হয়রানিতে ডিপফেকের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইউটিউবের নতুন উদ্যোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন