বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

বসুন্ধরা সিটিতে ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ: সাবেক সেলসম্যান গ্রেফতার

রাজধানীর Bashundhara City Shopping Complex-এ অবস্থিত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক সেলসম্যানকে গ্রেফতার করেছে Criminal Investigation Department।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক (৪৭)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ওই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সিআইডি জানিয়েছে, গত ১২ মে দুপুরে তেজগাঁও থানাধীন বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৮/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত একটি স্বর্ণালঙ্কার প্রতিষ্ঠানের স্টক যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, কৃষ্ণ বসাক অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় মালিকপক্ষের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজেই একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হন, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনেন এবং পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগ করেন।

তদন্তে আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে জানা যায়, মাসে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগে একটি জুয়েলারি ব্যবসা, ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ৫০ ভরি স্বর্ণ।

সিআইডি বলছে, এসব সম্পদের একটি অংশ আত্মসাৎ করা স্বর্ণ বিক্রির অর্থ থেকে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আত্মসাৎ করা স্বর্ণ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে আদালতে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এর আগে একই মামলার এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন