মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত : অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)–এর উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না—এটি সরকারের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে এটি নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

দেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বিএসআইসি চালু হয়েছে। এটি দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রাথমিকভাবে ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য স্টার্টআপ খাতে বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএসআইসি বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি সরকারের আস্থার প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোস্তাকুর রহমান জানান, আগামী ৩০ জুনের পর বাংলা কিউআর কোড ছাড়া পেমেন্ট করা যাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের অর্থায়নে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো সফল হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রকল্প বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেবে।

জানা গেছে, গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার এক শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এই তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের বিনিয়োগের জন্য ধারাবাহিক তহবিলচক্র হিসেবে পরিচালিত হবে।

বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটির বেশি ডলার বিনিয়োগ এলেও এর সাত শতাংশের কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।

তিনি জানান, বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় আস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের সংযোগ ঘটাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতেও এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ করপোরেট সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন