নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য বলে দাবি পুলিশের; মিরপুরে সহিংসতার পাঁচ মামলায় দুই দিনে গ্রেপ্তার ৬০।
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য এবং তাঁদের কেউ কেউ পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতায় জড়িত ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর ও আশুলিয়ায় আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।
মিরপুরে সহিংসতার ঘটনায় পাঁচ মামলা
গত ২ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচটি মামলা করা হয়।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলার মধ্যে পল্লবী থানায় তিনটি, মিরপুর মডেল থানায় একটি এবং রূপনগর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, গত দুই দিনে এসব মামলায় মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
নাশকতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকার দাবি পুলিশের
পুলিশের দাবি, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাঁরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান এবং পেট্রল দিয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়েছে।
ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে গতকাল সকালে তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ীদের প্রধান দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
প্রকৃত শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন না দাবি করে তিনি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের সমর্থিত পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। তাদের এই ষড়যন্ত্র সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।’

