মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা তাকাইচির, বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকবে জাপান

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশের উন্নয়নে সমর্থন দেবে জাপান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগে জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অভিন্ন অবস্থান

শীর্ষ বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানানোর কথা উল্লেখ করেন।

সানায়ে তাকাইচি লেখেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত রহমান সরকারের রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। তাঁর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে টোকিওর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব

সানায়ে তাকাইচি ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দুই অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দেশটির ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠী জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘বিগ-বি’ উদ্যোগে সহযোগিতা সম্প্রসারণ

বৈঠকে দুই নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি।

তাকাইচি জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উদ্যোগটিকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে নতুন একটি কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও জাপানের অবদানের স্বীকৃতি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনায় তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিরও প্রশংসা করেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন বলে জানান তাকাইচি।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে যৌথ উদ্যোগ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত দুই দেশের নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতিকে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাকাইচি বলেন, কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এবং যৌথ বিবৃতির আলোকে উভয় দেশ সম্মিলিতভাবে কাজ এগিয়ে নেবে।

আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজের প্রত্যয়

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন সানায়ে তাকাইচি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন