দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ে জাতীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান, সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব
তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে।
আজ সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে।’ কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশের বড় অর্জন
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনে আয়োজিত আনন্দঘন অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন—এটিকে দেশের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তি। যেকোনো মূল্যে এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন।
জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি সব ধর্মের মানুষের অবদান
মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটির প্রস্তাব
সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।
এই সাংবিধানিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
উৎসবের নিরাপত্তায় সতর্ক থাকার নির্দেশ
সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।
বঙ্গভবনে বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা দর্শনার্থী ও অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

