জাতীয় প্রেসক্লাব বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, প্রেস ক্লাবের অতীত ঐতিহ্য ও সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে। মাঝখানে প্রতিষ্ঠানটির যে সম্মান হানি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে সামান্য হলেও জড়িত রাখতে পারা বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার। প্রেসক্লাব তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখবে এটাই আমি আশা করি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি রাজনীতির পাশাপাশি নাটক করেছেন, লেখালেখি করেছেন এবং পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতাও হয়েছেন। স্বাধীনতার পর ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা থাকলেও রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত তা করেননি। পরে রাজনীতিকেই নিজের পথ হিসেবে বেছে নেন।
আবদুস সালাম বলেন, সাংবাদিক ও লেখকরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংবাদমাধ্যম চাইলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে, আবার তাদের ভূমিকা নেতিবাচকও হতে পারে। তিনি চান, সাংবাদিকরা দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
প্রেসক্লাবের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কিছু ছোটখাটো সংস্কারকাজের কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। বাগানের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চুনকামের মতো কাজগুলো করার চেষ্টা করবেন। তবে প্রেসক্লাবের জন্য বড় কোনো কাজের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি কাজ করতে চান, যার মাধ্যমে প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদানও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যান খুলে দেওয়া হয়েছে। জিয়া শিশু পার্কও কিছুদিনের মধ্যে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শহীদ মতিউর রহমানের মাঠও সুন্দর করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে চান তাঁরা।
সরকারের সময় ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পাঁচ-ছয় মাস খুব বেশি সময় নয়। দেশের নানা সংকটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিরোধী দলের এক দফার দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এক দফার কথা বলার পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
আবদুস সালাম বলেন, আমরা আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না। স্বাধীনতার সময় থেকেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। বারবার হোঁচট খাওয়ার পর ১৭, ১৯, ২০ বছর পরে আবার গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করেছি। এটা কেউ যাতে ব্যাহত করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সরকার পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ের অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান সরকার ভালো করতে না পারলে পাঁচ বছর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে পারবে। তাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।
রাজনীতিশূন্য দেশে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজনীতি থাকলেও একসময় দেশকে রাজনীতিশূন্য অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যেসব কাজের কথা জানানো হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। এর পাশাপাশি প্রেসক্লাবের জন্য আরও বড় কোনো উন্নয়নমূলক কাজের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

