তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা স্থবির, যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে মস্কোর তৎপরতা; ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। এর অংশ হিসেবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তাঁর প্রথম ইরান সফর।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রোববার এ সফরের তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে মস্কোর উদ্যোগ
সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে ল্যাভরভের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ল্যাভরভ বলেছেন, মস্কোর প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
এর আগে অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাভরভের সফরে আলোচনার মূল বিষয় হবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়।
মন্ত্রণালয়টির ভাষ্য, চলমান যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা স্থবির
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা বর্তমানে থেমে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা চললেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের বলে দাবি করে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বন সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে দেশটি নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌপথে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
রাশিয়া ও ইরান—উভয় দেশই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে দেশ দুটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে মস্কোর মধ্যস্থতার উদ্যোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনায় অগ্রগতি এবং সংঘাত নিরসনে তাদের অবস্থানের ওপর।

