অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের নিচে যুদ্ধক্ষমতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ‘ঘোস্ট শার্কে’ যুক্ত হচ্ছে মাইন ও ড্রোন

চালকবিহীন ডুবোযানে সর্বোচ্চ ১২টি সমুদ্র মাইন ও ঝাঁকবদ্ধ আকাশ ড্রোন বহনের সক্ষমতা, চীনের নৌ-তৎপরতা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান ‘ঘোস্ট শার্ক’-এর যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে এতে সমুদ্র মাইন, বিশেষ বাহিনীর সরঞ্জাম এবং ঝাঁকবদ্ধভাবে পরিচালনায় সক্ষম আকাশপথের ড্রোন যুক্ত করছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে পানির নিচে নজরদারি ও হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে চায় দেশটি। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে বিশাল আকৃতির এই চালকবিহীন ডুবোযান তৈরি করেছে। ক্যানবেরার সঙ্গে ১৮০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার) চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ঘোস্ট শার্কের একটি বহর তৈরি করছে। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডুবোযানে যুক্ত হচ্ছে তিন ধরনের সরঞ্জাম

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পমন্ত্রী প্যাট কনরয় সোমবার সিডনিতে জানান, গোপন পরীক্ষার পর তিন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা মানুষের মাধ্যমে করাতে চায় না অস্ট্রেলিয়া।

কনরয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোস্ট শার্কে সর্বোচ্চ ১২টি সমুদ্র মাইন, বিশেষ বাহিনীর ব্যবহারের সরঞ্জাম এবং অ্যান্ডুরিলের ‘অল্টিয়াস’ মডেলের আকাশপথের ড্রোন বহন করা যাবে। সমুদ্রের নিচ থেকে উৎক্ষেপণ করা এসব ড্রোন একসঙ্গে ঝাঁক বেঁধে কাজ করতে পারবে। নজরদারির পাশাপাশি এগুলো হামলার কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের জন্য নতুন এই সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কনরয়। তিনি বলেন, এখন প্রতিপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে যে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো বন্দরে থাকা পণ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরেও একটি ঘোস্ট শার্ক থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই কনটেইনারগুলোতে শুধু ঘোস্ট শার্কই থাকতে পারে না, এখন সেগুলোর আঘাত হানার ক্ষমতাও রয়েছে।’

চীনের নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ

চীনের নৌবাহিনীর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অস্ট্রেলিয়া। এ পরিস্থিতিতে চালকবিহীন যান ও ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘোস্ট শার্ক দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম। এটি চালকসহ পরিচালিত ডুবোযানের বহরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে। ফলে নজরদারি, সামরিক অভিযান এবং পানির নিচে বিভিন্ন কার্যক্রমে ডুবোযানটির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কনরয় জানান, আরও কয়েকটি দেশ ঘোস্ট শার্ক সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অকাস জোটের সহযোগিতা বাড়ছে

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোট অকাসের অংশীদাররা চলতি বছর পানির নিচে যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত ড্রোনের জন্য পরস্পরের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য সরঞ্জাম তৈরির অঙ্গীকার করেছে। পারমাণবিক ডুবোযান নিয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত মে মাসে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি কমিটিকে জানিয়েছিলেন, মার্কিন ডুবোযান মোকাবিলায় পানির নিচে সেন্সর, অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় যান তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে চীন।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যান্ডুরিল মার্কিন নৌবাহিনীর ভার্জিনিয়া শ্রেণির ডুবোযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ২৯০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি ডুবোযান নির্মাণ কারখানাও গড়ে তুলবে তারা।

অকাস চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ডুবোযান বিক্রির লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোস্ট শার্কের মতো স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির উন্নয়ন এ অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন