বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরাধ দমনে ক্রাইম রিপোর্টারদের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের ঝুঁকি ও পেশাগত স্বীকৃতির বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল অপরাধ বাড়ায় এ পরিস্থিতিতে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ৪৩ বছরের পথচলায় ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উচ্চমানের সাংবাদিকতার শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।

অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ শুধু একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর পেছনে থাকা মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ বিশ্লেষণে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপরাধের উৎসমুখে কার্যকর সমাধান আনতে পারলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।

ক্রাইম রিপোর্টারদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন, তাদের সহায়তায় সিএসআর ফান্ড বা অন্য কোনো মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সনদ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

অ্যাসিড অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কঠোর আইন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইভাবে মাদক, অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায়ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনি কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন আধুনিকায়ন করা জরুরি। নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুরোনো আইন সবসময় কার্যকর নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিংসহ নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর বিল উত্থাপন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

বক্তারা ক্র্যাবের ৪৩ বছরের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন