শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ব্যবহারের তথ্য দিলে বড় ছাড় দিচ্ছে মেটা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্নয়নে ব্যবহারকারীদের প্রম্পট ও মডেলের তৈরি আউটপুট সংগ্রহে নতুন ধরনের মূল্যছাড়ের কৌশল নিয়েছে মেটা। কোম্পানিটির নতুন ‘Muse Spark’ এআই মডেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে যারা ভবিষ্যৎ মডেল প্রশিক্ষণে নিজেদের ব্যবহারের তথ্য দিতে সম্মত হবেন, তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য হারে কম খরচে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কোডিংসহ বিভিন্ন ধরনের এআই এজেন্ট পরিচালনার জন্য তৈরি Muse Spark-এর ‘কন্ট্রিবিউটর’ মূল্যব্যবস্থায় সাধারণ দামের তুলনায় গড়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে।

মেটার মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সাধারণ চুক্তিতে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেন ব্যবহারের খরচ ১ দশমিক ২৫ ডলার। কিন্তু ব্যবহারকারীর প্রম্পট ও মডেলের আউটপুট ভবিষ্যৎ মডেল উন্নয়নে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে একই পরিমাণ ইনপুট টোকেনের দাম নেমে আসে মাত্র ১০ সেন্টে।

আউটপুট টোকেনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান আরও স্পষ্ট। সাধারণ ব্যবস্থায় প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের মূল্য ৪ দশমিক ২৫ ডলার হলেও কন্ট্রিবিউটর ব্যবস্থায় তা মাত্র ২০ সেন্ট।

মূলত উন্নত এআই এজেন্ট তৈরিতে বাস্তব ব্যবহারকারীদের কাজের ধরন, নির্দেশনা এবং মডেলের প্রতিক্রিয়ার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কোডিং এজেন্টের সক্ষমতা বাড়াতে বাস্তব ব্যবহারসংক্রান্ত ডেটা প্রশিক্ষণ ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে এআই খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও করপোরেট ডেটার নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বা মালিকানাধীন তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনাগ্রহী।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অরবিন্দ নারায়ণনও এ বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক ব্যয়বহুল এন্টারপ্রাইজভিত্তিক এআই সেবা ব্যবহার করে থাকে, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের আইটি ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। কম খরচের ভোক্তাভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন থাকা সত্ত্বেও তথ্য সুরক্ষার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেয়।

এই বাস্তবতায় মেটার নতুন মূল্যনীতি কার্যত তথ্য ভাগাভাগির বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার একটি মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানিটির মূল্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়ে মডেল প্রশিক্ষণ গ্রহণযোগ্য, সেখানে কন্ট্রিবিউটর ব্যবস্থা প্রোটোটাইপ তৈরি, ইন্টিগ্রেশন পরীক্ষা এবং বড় পরিসরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার খরচ কমাতে পারে।

তবে এই ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান বা ডেভেলপারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কম খরচে এআই মডেল ব্যবহার বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নাকি তাদের প্রম্পট, আউটপুট এবং কাজের ধরনসংক্রান্ত তথ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মেটার এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে মডেল ব্যবহারের খরচ কমানোর প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন মডেলের পাশাপাশি টোকেন প্রসেসিং ও অন্যান্য সেবার মূল্য কমিয়ে ডেভেলপার এবং করপোরেট গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মেটার এই কৌশল সফল হলে এআই শিল্পে নতুন ধরনের ‘ডেটার বিনিময়ে মূল্যছাড়’ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন তথ্য এআই কোম্পানির সঙ্গে ভাগ করা নিরাপদ এবং কোন তথ্য ব্যবসায়িকভাবে সংবেদনশীল—সেই পার্থক্য নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন