বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ২৫ লাখ টাকা, লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ দাবি: সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ১

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়া, পরে লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আবুল হোসেন (৬৯)। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার কাড়িহাতা গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।

সিআইডি সূত্র জানায়, মামলার বাদিনীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সহযোগীরা তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় তাকে আরও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি আটকস্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মিরপুর মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/৯/১০ ধারায় মামলা করেন।

সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আবুল হোসেনের মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৭টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭/৮/৯/১০ ধারায় আরও একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন