রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এবারের আসরটি বিভিন্ন কারণে ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ, যা আগের ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে একটি বড় পরিবর্তন। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসর শুরু হবে ১১ জুন এবং পর্দা নামবে ১৯ জুলাই।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল থাকবে। গ্রুপপর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ দিয়ে শুরু হবে নকআউট পর্বের লড়াই।

তিন দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে ছাড়াও কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, ডালাস, আটলান্টা, হিউস্টন, সিয়াটলসহ একাধিক শহর বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে। উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটিতে এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চলে।

বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইউরোপের শক্তিশালী দল ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি উদীয়মান দলও জায়গা করে নিয়েছে। প্লে-অফে জয়লাভ করে ইরাক ৪৮তম এবং শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের আসরেও অন্যতম ফেভারিট। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় দলটিকে ঘিরে আগ্রহও বেশি। একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স, তরুণ প্রতিভায় ভরপুর স্পেন, পুনর্গঠিত জার্মানি, শক্তিশালী ইংল্যান্ড এবং ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে কয়েকটি নতুন মুখও নজর কাড়ছে। আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো দেশও প্রথমবারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আয়োজক দেশগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, পরিবহন, আবাসন এবং দর্শকসেবার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফিফা জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত পানীয় জল, কুলিং জোন, হাইড্রেশন স্টেশন এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হবে। দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট আকারের সিল করা পানির বোতল স্টেডিয়ামে নিয়ে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

ফিফার হিসাব অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ৬০ লাখেরও বেশি দর্শক সরাসরি স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করবেন। সম্প্রচার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিশ্বের শতকোটি ফুটবলপ্রেমী এই আসরের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বিস্তৃত এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন হিসেবে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন