বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রোববার মাসদার হোসেন মামলার রিভিউ আবেদনের রায়

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ এবং বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৩০ জুন) দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ–এর নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

শুনানিকালে শিশির মনির বলেন, “মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। অথচ এই রায়কে কেন্দ্র করেই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বিদেশে পাঠিয়ে সরকার মনমতো বিচারক শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করেছিল।”

তিনি বলেন, “জাস্টিস সিনহা দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ‘হেভিয়ার্স কপার্স’ মামলাটি দায়ের করা হয়। সে সময় মরহুম অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন— ‘আমাদের প্রধান বিচারপতি কোথায়?’ কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।”

শিশির মনির আরও উল্লেখ করেন, “এস কে সিনহা তার ‘ব্রোকেন ড্রিম’ বইতে এসব ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।”

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেননি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলার রায়ে আপিল বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়— দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সিভিল সার্ভিসের আওতায় নয়, বরং একটি পৃথক বিচারিক সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই রায়ের মধ্য দিয়েই দেশে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

তবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ প্রণয়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কার্যত প্রশাসন থেকে পৃথক করে।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের রূপরেখা উপস্থাপন করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন