বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিদেশি ব্যাংকে সহজ শর্তে লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার দুই প্রতারক

বিদেশি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দিনাজপুরের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই কোটি ছয় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতারকচক্র। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সফিকুল ইসলাম ও ড. সিপার আহমেদ। তারা রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের টয়োটা ক্লুগার গাড়ি, ৪টি মোবাইল ফোন, ৮টি সিমকার্ড, ৬টি ভুয়া চুক্তিপত্র, ১৩টি ব্যাংক চেক ও বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নুর আমিন শাহ দিনাজপুরের চিলিবন্দর থানার এম এইচ ব্রিক ফিল্ড ও অটো রাইচ মিলের মালিক। তিনি জানান, ‘বিনামূল্যে ডকুমেন্ট ছাড়াই মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ৫০ কোটি টাকা বিদেশি ব্যাংক থেকে লোন’ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারকরা তার কাছ থেকে ২ কোটি ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় তিনি বনানী থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই জানায়, সফিকুল নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তার কথিত “বস” হিসেবে ড. সিপার আহমেদকে পরিচয় করিয়ে দেয়, যিনি পূর্বে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি এবং বেসিক ব্যাংকে চাকরিরত ছিলেন। তাদের দেওয়া ভুয়া চুক্তিপত্র ও চেকের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে নানাভাবে ভুক্তভোগীকে প্রতারিত করা হয়।

পিবিআই-এর অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, “আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছি। আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ মামলার প্রধান আসামি সফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন