বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

নিখোঁজের ৮ দিন পর সবুজবাগে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, জমি বিরোধে হত্যার অভিযোগ

ঢাকা: রাজধানীর সবুজবাগ বাইগদিয়া এলাকার একটি ঝোপঝাড় থেকে নিখোঁজের ৮ দিন পর জাকির হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে ঈদগাহ রোডসংলগ্ন একটি গলির পাশে মাটি খুঁড়ে মরদেহের ৬টি অংশ উদ্ধার করা হয়। নিহত জাকিরের এক হাতের অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

নিহতের ভাই মো. সুমন মিয়া জানান, জাকির হোসেন উত্তর মানিকদিয়ার নিজ বাড়িতে স্ত্রী রেখা আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। পুরোনো বোতলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। গত ৪ জুন রাতে ত্রিমোহনীর একটি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ১১টার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর ৭ জুন তার স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

সুমন অভিযোগ করেন, পারিবারিকভাবে তাদের কয়েক বিঘা জমি নিয়ে চাচাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার ধারণা, সেই জমি বিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার ভাইকে অপহরণ করে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুল আমিন বলেন, অপহরণ মামলার তদন্তে গিয়ে বুধবার রাতে জাকিরের প্রতিবেশী আজাহার (৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঈদগাহ রোডের একটি ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ছয় টুকরো অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, একটি হাত শিয়াল বা কুকুর খেয়ে ফেলেছে।

এই ঘটনায় আরও তিনজন—শুকুর আলী, স্বপন ও রাজিব—কে আটক করা হয়েছে। হত্যার মোটিভ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত জাকিরের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন