বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

নগদ নিয়োগ অনিয়ম, হাসপাতাল দুর্নীতি ও বন বিভাগের জমি দখল—দুদকের তিন অভিযান


দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১ জুন ২০২৫ তারিখে তিনটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকা, মাদারীপুর ও টাঙ্গাইলে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর নিয়োগে অনিয়ম, মাদারীপুরের সরকারি হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম এবং টাঙ্গাইলে বন বিভাগের জমি দখল ও প্রকল্প অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

নগদ-এর নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাত
ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত প্রথম অভিযানে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়। অভিযানে নিয়োগে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্তের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদ এবং তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুইকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। আত্মসাতের অভিযোগ যাচাইয়ে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

মাদারীপুর হাসপাতালের অচল যন্ত্রপাতি ও তেল আত্মসাত
দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার ইউনিটে। অভিযোগে উল্লেখ ছিল ICU ও CT Scan ইউনিট অচল, ৩০ লাখ টাকার জেনারেটর তেলের বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অনিয়ম। তদন্তে দেখা যায়, ICU ইউনিটে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত জনবল থাকা সত্ত্বেও তা চালু করা হয়নি। CT Scan মেশিনের বেড এক মাস ধরে অচল। তেল আত্মসাতের ঘটনায় ২৬ লাখ টাকা উত্তোলনের ভাউচার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

মাদারীপুর সদর হাসপাতাল

টাঙ্গাইলে বন বিভাগের জমি দখল ও প্রকল্প অর্থ আত্মসাত
তৃতীয় অভিযান পরিচালিত হয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের সাগরদীঘী বিটে। সরেজমিনে পরিদর্শনে বন বিভাগের ২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি জবরদখলের প্রমাণ মেলে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। নার্সারি সৃজন ও সামাজিক বনায়নের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট জানিয়েছে, তিনটি অভিযানের প্রাপ্ত রেকর্ড ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশন সব অভিযোগের ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন