বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম: এনবিআর বিলুপ্ত, জারি হলো ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ — রাজস্ব ভবনে বিক্ষোভ, কর্মবিরতির ইঙ্গিত

দৈনিক প্রান্তকাল প্রতিবেদক | ঢাকা | ১২ মে ২০২৫

বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত উপেক্ষা করেই সরকার জারি করেছে বহু প্রতীক্ষিত ও আলোচিত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’। সোমবার (১২ মে) রাতে অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশাসনিক পদগুলোতে অ্যাডমিন ক্যাডার, আয়কর ক্যাডার ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাজস্ব নীতি বিভাগের কার্যপরিধিতে মাত্র সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে—‘পরিবীক্ষণ’ শব্দের পরিবর্তে যোগ হয়েছে ‘মূল্যায়ন’।

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত থাকবে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত হয়ে তার জনবলও রাজস্ব নীতি বিভাগে স্থানান্তরিত হবে।

রাজস্ব ভবনে বিক্ষোভ, রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা

অধ্যাদেশ প্রকাশের পরদিনই এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এনবিআরের অন্তর্গত পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা দফায় দফায় বৈঠকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে এনবিআর ভবনে রাজস্ব সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৩টা থেকে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ‘অংশীজনের মতামত না নিয়েই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে’, এবং এর খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতিরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেই সংকট

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫,৬৬৫ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিদিন আদায় করতে হবে ২,২৭৫ কোটি টাকা। ঠিক এই সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আহরণ বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজস্ব কাঠামোতে এমন বড় পরিবর্তনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। তা না করায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন