অনুসরণ করুন:
রবিবার, ৩ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: ফলতায় ভোট বাতিল, ২১ মে পুনর্ভোট—সোমবার ২৯৩ আসনে গণনা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে Election Commission of India। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে পুনর্ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ মে ওই কেন্দ্রের গণনা হবে। এর ফলে সোমবার রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হবে।

কমিশন জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ফলতার ভোটে গুরুতর নির্বাচনী অনিয়ম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকা, ইভিএমে টেপ লাগিয়ে প্রতীক ঢেকে দেওয়ার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের মাঝপথে সমস্যা ঠিক করা হলেও ততক্ষণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পড়ে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে কিছু বুথে পুনর্ভোটের প্রস্তাব উঠলেও, স্ক্রুটিনি শেষে গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও কম নয়। ভোটের আগে থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ভোটের দিন ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে, পরে সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

এদিকে, ভোটগণনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে, প্রয়োজনে সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য কিউআর কোডযুক্ত আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক স্তরে যাচাইয়ের পরই কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। গণনা শুরু হবে সোমবার সকাল ৮টা থেকে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএমের ভোট গণনা করা হবে। সাধারণত দুপুরের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল প্রবণতা সামনে আসতে শুরু করে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন