বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

চীনে গেল বাংলাদেশের আমের প্রথম চালানউভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে এ রপ্তানি: চীনা রাষ্ট্রদূত

চীনের বাজারে বাংলাদেশের আমের প্রথম চালান রপ্তানি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এ রপ্তানির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (২৮ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানিকৃত আমের এই চালান চীনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

রপ্তানি কার্যক্রম উপলক্ষে বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশের আম চীনের বাজারে প্রবেশ কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিই নয়, বরং বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক হবে। এ উদ্যোগ অর্থনৈতিক সহযোগিতার পারস্পরিক লাভজনক রূপ প্রতিফলিত করছে।”

তিনি আরও বলেন, “গঙ্গা বদ্বীপের উর্বর মাটিতে উৎপাদিত বাংলাদেশি আম উচ্চমানের কৃষি পণ্যের প্রতীক। এটি চীনা ভোক্তাদের জন্য একটি নতুন ও বৈচিত্র্যময় পছন্দ হবে এবং ভোক্তা সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবে।”

চীনা বাজারে প্রবেশের ফলে বাংলাদেশের আম শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “এই রপ্তানি সরাসরি কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।”

দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কারিগরি ও স্বাস্থ্যগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনে আম রপ্তানি শুরু হলো। চলতি মৌসুমে চীনে প্রাথমিকভাবে ৫০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত মাসে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এলাকায় একটি আমবাগান পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশি আমের গুণমান ও উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে সরেজমিনে অবহিত হন।

এই রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, চীনা বাজারে সফলতা পেলে বাংলাদেশের অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানির পথ আরও প্রশস্ত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন