বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সুব্রত বাইন-মোল্লা মাসুদসহ চার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের


ঢাকা, ২৮ মে ২০২৫

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী এবং মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে। একই অভিযানে তাদের দুই সহযোগী শ্যুটার আরাফাত ও শরীফকেও আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র ইনফেন্ট্রি ব্রিগেড গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুব্রত ও মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের দেয়া তথ্যে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও দুই সহযোগীকে।

অভিযানে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকার হাতিরঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে চারজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রব্বানী হোসেন জানান, বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় বিগত কয়েক মাসে সংঘটিত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সুব্রত বাইনের অপরাধজগতের যাত্রা শুরু নব্বইয়ের দশকে। মগবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার উত্থান ঘটে। ১৯৯১ সালে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা মুরাদ খুনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা হয়। পরবর্তীতে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান। ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।

মোল্লা মাসুদ সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ভারতে পালিয়ে গিয়ে নাগরিক রিজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করে সেখানেই বাস করছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধেও হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আইএসপিআর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে একাধিক থানায় নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সব সময় সজাগ এবং জনগণের সহযোগিতা কাম্য।

তিনি বলেন, “জননিরাপত্তা রক্ষায় সন্দেহজনক সন্ত্রাসী তৎপরতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য জনগণকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

এই অভিযান প্রমাণ করে, সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন