বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তরের ঘোষণা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, কারাগার শুধু বন্দিশালাই নয়, বরং একটি সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। অপরাধী নয়, বন্দিকে সংশোধনযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠায় সরকার উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কারা অধিদপ্তরের ১৪তম ব্যাচের ডেপুটি জেলার এবং ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘Correctional Industrial Park’ গঠনের মাধ্যমে বন্দিদের কারাগারে বসেই প্রশিক্ষণ ও আয় রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে তারা মুক্তির পর দক্ষ জনবল হিসেবে সমাজে ফিরে আসতে পারবে এবং পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে পারবে।

কারারক্ষীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে মানবিকতা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, কারারক্ষীদের প্রতিদিন বন্দিদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। তাদের দায়িত্ব পালনে ধৈর্য, সাহস, সততা এবং নৈতিকতা থাকা অপরিহার্য। তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কেবল পেশাগত দক্ষতা নয়, দেশপ্রেম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলার ভিত্তি।

তিনি নবীন কর্মকর্তাদের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ডেপুটি জেলারদের কারা প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন ডেপুটি জেলার ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছ প্রশাসন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে।

সরকার কারা ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চায় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কারাগারগুলিতে মোবাইল জ্যামার, বডি ও লাগেজ স্ক্যানার, সার্কিট ডিটেক্টরসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ জেল মেডেল’ প্রবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অবসরপ্রাপ্ত কারা সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টিও বাস্তবায়নের পথে।

অনুষ্ঠানে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নবীন ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট মোঃ কামাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

১৪তম ব্যাচের ডেপুটি জেলারদের মধ্যে মোছাঃ খাদিজা খাতুন লিমা সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং ডিএম নুসরাত আল ইসলাম ‘বেস্ট ফায়ারার’ নির্বাচিত হন। ৬২তম ব্যাচের কারারক্ষী ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন সুব্রত চন্দ্র সরকার এবং সেরা ফায়ারার হন রায়হান মিয়া।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন