বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিজাতীয় সংস্কৃতিকে ছুঁড়ে ফেলে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার আহ্বান কাদের গনি চৌধুরীর

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, “বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, জাতীয় সংস্কৃতিকে করছে দুর্বল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে চর্চা ও লালন করতে হবে।”

শুক্রবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ’আমরা কুঁড়ি’র ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। কিন্তু এখনকার সাংস্কৃতিক চর্চায় সমাজের প্রকৃত চিত্র না ফুটে বিপরীত কিছু ফুটে উঠছে, যা জাতিগত আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কাদের গনি চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল ও বিদেশি সঙ্গীতের আগ্রাসন বিশেষ করে নারীদের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলছে। এমনকি অনেকের কাছে বাংলা গান বা চলচ্চিত্রের শিল্পীরা অজানা হলেও, বিদেশি অভিনেতা ও গায়করা মুখস্থ।

তিনি বলেন, “বিয়ে, উৎসব, কিংবা পিকনিকে আজ হিন্দি গান ছাড়া যেন কিছুই চলে না। বাংলা সঙ্গীত, পালাগান কিংবা গ্রামীণ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছেঁড়া প্যান্ট, অদ্ভুত চুলের কাটিং আর অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গিকে এখন আধুনিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ সমাজ আজ পশ্চিমা জীবনের আদলে গড়ে উঠছে, যা আমাদের ঐতিহ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

শিশুদের বিকাশে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে কাদের গনি বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে শিশুদের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে শিশু সহনশীল হবে, সামাজিক হবে।”

তিনি বলেন, “আমার সন্তান দুধে-ভাতে থাকবে আর অন্যের সন্তান ফুটপাতে ঘুরে বেড়াবে—এটা হতে পারে না। এই বৈষম্য রোধে আমাদের জেগে উঠতে হবে।”

কাদের গনি চৌধুরী তার বক্তব্যে দেশের সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় গণসচেতনতা ও নীতি নির্ধারকদের সক্রিয় ভূমিকায় আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভালো কিছু গ্রহণ করতে দ্বিধা নেই, তবে আমাদের সাংস্কৃতিক ভিত্তি হতে হবে দৃঢ়, স্বতন্ত্র ও সুস্থ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ এস এম কামাল উদ্দিন। আলোচনায় অংশ নেন আবদুস সালাম, সৈয়দ আলমগীর, নুরুল আজম পবন, আইয়ুব ভূঁইয়া, মুশতাক আহমদ, ফেরদৌস আরা বন্যা প্রমুখ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন