বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

দুর্ধর্ষ জঙ্গিসহ এখনো পলাতক ৬৯০ বন্দি

নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছিলেন ৮২৬ জন, দেশের কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি

ঢাকা, ১৮ আগস্ট:

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে দুর্ধর্ষ জঙ্গিও রয়েছে। এ পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এসব তথ্য জানান।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ১৬৬ জনের অবস্থান বা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নরসিংদী কারাগার থেকেই পালান ৮২৬ বন্দি

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের পর সেখান থেকে বিভিন্ন মামলার ৮২৬ বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও আনসার আল ইসলামের নয়জন শীর্ষ জঙ্গিও ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন হামলাকারীরা কারাগারের প্রধান ফটক ও তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অস্ত্রাগারে হামলা চালায়। সেখান থেকে প্রায় ৮৫টি অস্ত্র এবং ৮ হাজার ১৫০ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। কারা হাসপাতাল ও প্রবেশদ্বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পালিয়ে যাওয়া অনেক বন্দি গ্রেপ্তার হন। কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে আবার কয়েকজন আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তিও পেয়েছেন। তবে পলাতক বন্দি ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এখনো চলছে।

ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার, বন্দি ৯৮ হাজার

সংবাদ সম্মেলনে দেশের কারাগারগুলোর অতিরিক্ত বন্দির চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন কারা মহাপরিদর্শক। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৭৫টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি জেলা কারাগার ও ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার।

এসব কারাগারের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও মঙ্গলবার বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৮ হাজার। অর্থাৎ, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি বর্তমানে কারাগারগুলোতে অবস্থান করছেন।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, দেশের ২১টি কারাগার জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। কারাগারে কোনো বন্দিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রতিটি কারাগারে বন্দিদের খাবারের পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে।

মাদক-দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’

কারাগারে মাদক প্রবেশ এবং এর সঙ্গে কারারক্ষীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের কারণে গত দুই বছরে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সময়ে ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধে ৩০৩ জনকে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে।

কারা ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ কারাগারকে ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারকে ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন