রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

ঢাকা, ৬ জুন : দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংস্কৃতিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাজেট ঘোষণায় সৃজনশীল অর্থনীতিকে একটি সম্ভাবনাময় উন্নয়ন খাত হিসেবে তুলে ধরা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বিনোদন ও সৃজনশীল উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে দেশের সাংস্কৃতিক শক্তিও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, প্রকাশনা, স্থাপত্য, নকশা, কারুশিল্প, সফটওয়্যার, ডিজিটাল কনটেন্ট, ভিডিও গেমস, বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাতকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এই খাতের বিকাশ মাদকাসক্তি, সহিংসতা ও উগ্রবাদ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু সাংস্কৃতিক চর্চা নয়, সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনৈতিক উৎপাদন ও রপ্তানির নতুন উৎসে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পূর্বাচলে বৃহৎ পরিসরের একটি ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সৃজনশীল কার্যক্রমের কেন্দ্র গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবনকেন্দ্র চালু করা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্প ও সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করা।

এ ছাড়া মৃৎশিল্প, বেত ও বাঁশের কাজ, শীতলপাটি, টেরাকোটা, হস্তনির্মিত অলংকারসহ স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যটন, সাংস্কৃতিক উৎসব, চলচ্চিত্র এবং সৃজনশীল ডিজাইন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উন্নত ও উদীয়মান অনেক দেশ ইতোমধ্যে সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তবে বাংলাদেশে এ খাতের বিকাশে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দুর্বলতা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব, আধুনিক অবকাঠামোর ঘাটতি এবং সমন্বিত নীতিমালার অভাব সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সৃজনশীল অর্থনীতি আগামী দশকে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন