রবিবার, ১০ মে ২০২৬

গাজাগামী বহরের দুই বিদেশি মানবাধিকারকর্মীকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর থেকে আটক দুই বিদেশি মানবাধিকারকর্মীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মুক্তি পাওয়া দুজন হলেন—ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা। তারা গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র সদস্য ছিলেন।

গত ৩০ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরটি আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। ওই সময় বহরে থাকা কয়েক ডজন কর্মীর মধ্যে আবু কেশেক ও আভিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নেওয়া হয়। অন্যদের ক্রিটে নামিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তদন্ত শেষে সাইফ আবু কেশেক ও থিয়াগো আভিলাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে আবু কেশেক জানান, তিনি গ্রিসের এথেন্সে পৌঁছেছেন। এ সময় তিনি তার আইনজীবী দল, পরিবার ও আন্দোলনের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ইসরায়েল দাবি করেছে, আবু কেশেক একটি “সন্ত্রাসী” সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং আভিলা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাদের দাবি, তারা গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এ ঘটনায় স্পেন, ব্রাজিল এবং জাতিসংঘ দ্রুত তাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে বুধবার ইসরায়েলের একটি আদালত তাদের আটকের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেয়। তাদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে “অবৈধ” বলে আখ্যা দেয়।

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল গাজার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

২০০৭ সাল থেকে গাজার সব প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধে সেখানে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জামের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন