শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

বুলিং ঠেকাতে স্কুলে বেত্রাঘাতের বিধান চালু করল সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের স্কুলগুলোতে বুলিং ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় নতুন শৃঙ্খলাবিধি চালু করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ছেলেশিক্ষার্থীদের এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।

দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত এই বিধিমালা নিয়ে চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার বেশি বয়সী ছেলেশিক্ষার্থীরা এই শাস্তির আওতায় পড়বে।

ডেসমন্ড লি বলেছেন, বেত্রাঘাত হবে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, কোনো শিক্ষার্থীর অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত মনে হলে তবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, শাস্তি কার্যকরে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং তা কার্যকর করতে পারবেন কেবল অনুমোদিত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা ও এই শাস্তি তার আচরণ সংশোধনে সহায়ক হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে এক বছরব্যাপী পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির কয়েকটি স্কুলে আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

মেয়েশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতের বিধান রাখা হয়নি। সিঙ্গাপুরের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ। তবে বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত মূল্যায়ন কমিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য স্কুলভিত্তিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংসহ অন্যান্য সহায়তা সেবা দেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, শারীরিক শাস্তি শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর ও অবমাননাকর আচরণ এবং এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের শারীরিক শাস্তি বহুমাত্রিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে এবং এর কোনো ইতিবাচক উপকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। যদিও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য নিজ দেশে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারি স্কুলগুলোতে শারীরিক শাস্তি বাতিল করে দেয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন