বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জঙ্গি ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্য উপদেষ্টার ভিন্ন বক্তব্যে জনমনে আলোচনা

দেশে জঙ্গি তৎপরতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান-এর ভিন্নধর্মী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সতর্কতা জারির প্রেক্ষাপটে এই দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরস্পর ভিন্ন অবস্থান সামনে আসে।

গত ২৮ এপ্রিল সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জঙ্গি নেই—এ কথা পুরোপুরি বলা যাবে না। তাঁর মতে, দেশে কিছু জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে, তবে অতীতে বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে জঙ্গিবাদকে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার বড় অংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি বা উগ্র তৎপরতার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ, রেডিক্যাল ফোর্স এবং মৌলবাদী রাজনৈতিক দল থাকতে পারে, তবে বর্তমান বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি নেই, যেখানে জঙ্গি তৎপরতা শব্দটি প্রয়োগ করা যৌক্তিক হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এ ধরনের বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের সংগঠিত জঙ্গি তৎপরতার অস্তিত্ব নেই বলেই সরকারের মূল্যায়ন।

এ দুই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বিত ও স্পষ্ট বক্তব্য থাকা জরুরি। বিশেষ করে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিতভাবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, জঙ্গি ঝুঁকি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে থাকেন। সেই বিবেচনায় তাঁর বক্তব্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি দমনে অনেক ক্ষেত্রে সফল হলেও অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ, তরুণদের চরমপন্থায় প্রভাবিত হওয়া এবং তথাকথিত ‘হিজরতের’ নামে ঘরছাড়া হওয়ার প্রবণতার মতো বিষয়গুলোও নজরদারির মধ্যে রাখা প্রয়োজন।

তাঁদের অভিমত, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সতর্ক, সমন্বিত এবং তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়া জরুরি, যাতে জনমনে অযথা আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বজায় থাকে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন