বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

‘সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে’

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশে সব জায়গায় আওয়ামী লীগ সরকারের মতো শাসনব্যবস্থার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানাতে পারছেন না, কারণ বর্তমান রাষ্ট্রপতি গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির এত দুর্বলতা কেন। একসময় বিএনপি তাদের মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরী-কে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরাতে সময় নেয়নি, অথচ এখন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে বিএনপিকেই ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি দলের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, একমাত্র সমস্যা যেন বিরোধী দল। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সাল থেকে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের নানা পর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপি একসঙ্গে ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্তও এই সম্পর্ক ছিল, তখন কোনো সমস্যা ছিল না।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই জামায়াতকে সব সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, তেলের দাম বৃদ্ধি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি দলের বক্তব্য নেই।

২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেদিন অনেকেই মনে করেছিলেন স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটবে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা বৈঠকও করেছিলেন। সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় এসেছিলেন। তবে পরদিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্যদের ফোন বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকেই এসেছিল। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস হলেও ইতোমধ্যে দলীয়করণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ, সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিয়োগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা ফ্যাসিবাদের সময় ওএসডি ছিলেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেককে আবারও একই অবস্থায় রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের দোসররা বহাল থেকে সুবিধাজনক পদায়ন ও পদোন্নতি পাচ্ছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা কারও জন্যই ভালো নয়—না দেশের জন্য, না গণতন্ত্রের জন্য।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন