শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সুইডেনের অর্থায়নে জলবায়ু মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ প্রকল্প চালু হবে

ঢাকা, ৩ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুইডেন সরকারের অর্থায়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার হাতে “স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি অফ এমওএফইসিসি, ডিওই, অ্যান্ড বিএফডি ফর ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স” শীর্ষক প্রকল্পের অনুদান চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সুইডিশ উন্নয়ন সংস্থা সিডার অর্থায়নে এই প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

এই প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার উন্নত তদারকি, পরিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং দেশের প্রথম ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।

এর আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইআরডির সচিব (রুটিন দায়িত্বে) ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং ঢাকাস্থ সুইডেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও সহযোগিতা প্রধান মারিয়া স্ট্রিডসম্যান। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব লুবনা ইয়াসমিন এবং সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতা বিভাগের উপপ্রধান নাইওকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম।

৫০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের তিনটি মূল উপাদান রয়েছে।

  • প্রথম উপাদান: প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, যার আওতায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে। এছাড়া তৈরি হবে নজরদারি পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে।
  • দ্বিতীয় উপাদান: সোনাদিয়া দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ ইকোলজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া (ECA) অঞ্চলে উন্নত তদারকি ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। এর মধ্যে রয়েছে ম্যানগ্রোভ পুনঃস্থাপন, বালিয়াড়ি স্থিতিশীলকরণ, কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র এবং প্রাথমিক পরিবেশগত মূল্যায়ন। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গঠন করা হবে ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ।
  • তৃতীয় উপাদান: প্রতিষ্ঠিত হবে একটি ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট ফান্ড, যা টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মানব-প্রাণী দ্বন্দ্ব হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। এতে সরকারি বাজেটের ওপর নির্ভরতা কমবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এই প্রকল্প বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন