বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ; দুই খামারিকে ২ লাখ টাকা করে ঋণ সহায়তা
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন ও উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সিড ফাইন্স ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় খামারি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই খামারিকে ঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ
উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানে দুই খামারিকে দুই লাখ টাকা করে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণেরা বায়োগ্যাস প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।
তিনটি গরু থাকলেই করা সম্ভব পারিবারিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। দেশে আবু তাহেরের মতো সফল উদ্যোক্তাও তৈরি হচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র তিনটি গরু থাকলেই একটি পারিবারিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব। এ ধরনের প্ল্যান্টের ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাইরের দেশ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
যুব প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ
মো. আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ ট্রেডগুলো আধুনিক ও পরিমার্জিত করা হচ্ছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের আওতায় এনে আগামী দিনে যুবসমাজের বেকারত্ব পুরোপুরি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় তরুণদের বায়োগ্যাস প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘরে ঘরে প্ল্যান্ট স্থাপনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ একদিকে যেমন বিকল্প জ্বালানির জোগান বাড়াতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে।

